২৮. ফরেক্সের ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পৃথিবী খুবই বিশৃঙ্খল হয়ে ছিল। ঠিক এসময় পশ্চিমের সরকার গুলো এমন একটা পদ্ধতি তৈরি করার দরকার মনে করে যার দ্বারা বিশ্ব অর্থনীতি একটি স্থির অবস্থায় আসে।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় “Bretton Woods System”। এতে ইউএস ডলার এর সাথে সোনা এর বিনিময় করার চুক্তি করা হয়। এতে ইউএস দলারের সাপেক্ষে সোনার মুল্য নিরধারন করা হয়। বলা বাহুল্ল্য যে, বর্তমানে সোনার মুল্য পেগ করা হয় অন্যান্য মেজোর মুদ্রা এর সাথে।

ঐ পদ্ধতির ফলে বিশ্ব অর্থনীতি একটু স্থির হলেও পৃথিবীর মেজোর অর্থনীতিগুলো বিভিন্ন গতিতে পরিবর্তন হতে শুরু করে। কিন্তু পধতির নিয়ম গুলো অপ্রচলিত ও সিমিত হতে শুরু করে।

১৯৭১ সালের দিকে “Bretton Woods Agreement” বিলুপ্ত হতে শুরু করে এবং এটা অন্য একটি মুদ্রা এর মুল্য নিরধারনের পদ্ধতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাইলটের আসনে বসিয়ে মুদ্রার বাজার উরতে শুরু করে, যেখানে বিনিময় হার মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের উপর নির্ভর করে।

প্রথমে একটি ন্যায্য বিনিময় হার ঠিক করা খুবই কঠিন ছিল, কিন্তু প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এর উন্নতি এর জন্য দিন দিন এটা আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে।

১৯৯০ সালের দিকে কম্পিউটার এক্সপার্ট এবং ইন্টারনেট এর বিকাশের জন্য ব্যাংক গুলো নিজেদের ট্রেডিং প্লাটফর্ম তৈরি করতে শুরু করে।

এই প্লাটফর্মগুলো এম্ন ভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে তাদের ক্লাইণ্টরা সরাসরি মুল্যের উধ্রিতি দেখতে পারত এবং ট্রেড করতে পারত।

এই সময় কিছু বুদ্ধিমান ব্যাবশাই ইন্টারনেট দিয়ে ট্রেড করার মতো প্লাটফর্ম বের করে নিজেদের জন্য।

যার ফলে “retail forex trader” রা সহজে ছোট আকারের ট্রেড করতে পারেন।

যেখানে আন্তব্যাংক গুলোতে ট্রেড এর জন্য স্ট্যান্ডার্ড পরিমান ধরা হতো ১ মিলিয়ন ইউনিট, সেখানে রিটেইল ব্রোকারে ১০০০ ইউনিট নিয়ে ট্রেড করা যাইত।

Retail Forex Brokers

আগে শুধু অনেক বড় মূলধন বিনিয়ক করা ছাড়া ট্রেড করা যেত না, কিন্তু retail forex brokers এবং ইন্টারনেট এর কল্যাণে এমনটা আর হয় না।

এখন যে কেউ কোন ব্রোকারের সাথে কথা বলে, একটি একাউনট খুলে কিছু টাকা আমানত রেখে খুব আরামে বাসায় বশে ফরেক্সে ট্রেড করতে পারে।

ব্রোকার দুই ধরনের হয়ে থাকে

১. Market Makers, এরা নিজেরা নিজেদের জন্য bid/ask price নিরধারন করে।

২. Electronic Communications Netwrk (ECN), এরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং আন্তব্যাংক থেকে সবচেয়ে উত্তম মুল্য ব্যবহার করে থাকে।

Market Makers

ধরুন আপনি ফ্রান্স এ যাবেন কফি খাওয়ার জন্য। এই যাওয়ার জন্য প্রথমেই আপনার লোকাল ব্যাংক অথবা কোন কারেন্সি এক্সচ্যাঞ্জ অফিসে গিয়ে আপনার মুদ্রার বিনিময়ে কিছু ইউরো নিতে হবে। বিনিময় হার তারা নিজেরাই ঠিক করতে থাকে।

ব্যাবশাইক ট্রানজেকশনের একটি নিয়ম রয়েছে । এখানে bid ও ask spread এর উপর ভিত্তি করে ট্রানজেকশন হয়ে থাকে।

যেমন ধরুন কোন ব্যাংক EUR/USD 1.2000 মূল্যে কিনবে(BID) এবং বিক্রি (ask) করবে

1.2002 , তাহলে এখানে bid/ask spread হল 0.0002।

আপাতদৃষ্টিতে এই পরিমান অনেক কম মনে হলেও দৈনিক ফরেক্স থেলে ট্রেডাররা যে পরিমান মুনাফা লাভ করে থাকে সেটা অনেক বড়। Market Maker রাই এই মুনাফা করার ব্যাবস্থা করে দেয়।

Market Maker দের ফরেক্স মার্কেটের মুনাফা তৈরির মুল উপাদান হিসেবে ধরা হয়।

Retail market makers দের মুল কাজ হল বড় পরিমানের কন্ট্রাক্ট গুলোকে ছোট কন্ট্রাক্ট এ পরিনত করা, যার ফলে সাধারন জনগন কম মূলধন নিয়ে ফরেক্স ট্রেড করতে পারে।

Electronic Communications Network

ট্রেডিং প্লাটফর্ম যেগুলোতে কাস্তমাররা কোন ঝামেলা ছাড়া যেকোনো জায়গা থেকে ট্রেডিং করতে পারে, সেগুলকে Electronic Communications Network।

এখানে যেই মুল্য দেয়া থাকে সেগুলো বিভিন্ন market makers, ব্যাংক, এমনকি যেগুলো ট্রেডার ECN এর মাধ্যমে ট্রেড করে থাকে তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়ে থাকে।

যখন কোন কেনা অথবা বেচা এর অর্ডার দেয়া হয় তখন বাজারের যেই মূল্য থাকে ঐ মূল্যে কেনা বেচা করা হয়ে থাকে।

যেহেতু ট্রেডাররা ECN এর দ্বারা নিজেদের শুবধা মতো মূল্যে ট্রেড করতে পারে, এজন্য ECN ব্রোকার গুলো কিছু কমিশন নিয়ে থাকে।জার পরিমান খুবই সামান্য।

খুব ছোট spread ও কম কমিশন থাকার জন্য বিনিময় এর হার খুবই কম হয়ে থাকে।

Source https://www.babypips.com/learn/forex/know-your-history

Author: Mohammad Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *